সব প্রকল্প চলমান

নব শালবন বিহার ও প্রার্থনা হল

পাশের প্রাচীন শালবন বিহারের নামে ও তার আদলে গড়া আমাদের বিহার।

লাল কারুকাজের চূড়াসহ নব শালবন বিহারের সাদা মূল ভবন

বাংলাদেশ বুদ্ধিষ্ট কালচারাল একাডেমীর ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমরা প্লট ১-এ, কালের সাক্ষী ঐতিহাসিক শালবন বিহারের পশ্চিম পাশে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করেছি। প্রাচীন শালবন বিহারের প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে বিহারটির নামকরণ ও নির্মাণশৈলী ঠিক করা হয়েছে; আমরা এর নাম দিয়েছি নব শালবন বিহার। আমরা চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখানে এসে তাদের পূর্বপুরুষদের গৌরবময় ইতিহাস জানুক, যে ইতিহাস প্রাচীন শালবন বিহারের দেয়ালের প্রতিটি ইটে গাঁথা।

একসময় কল্পনাও করা যেত না যে আচার্য শান্তরক্ষিত ও পণ্ডিত শীলভদ্রের উত্তরসূরি ভিক্ষুসংঘ আবার এই প্রাঙ্গণে বিচরণ করবেন, আর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসে ধ্বনিত হবে ত্রিশরণ মন্ত্র: বুদ্ধং সরণং গচ্ছামি, ধম্মং সরণং গচ্ছামি, সংঘং সরণং গচ্ছামি। নব শালবন বিহার ওয়াইএমবিএর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমৎ শীলভদ্র মহাথেরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রজ্ঞার ফসল।

১৯৯৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কৃতী সন্তান, তৎকালীন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন, বীর প্রতীক, এমপি এবং পরম পূজ্য জ্যোতিঃপাল মহাথের যৌথভাবে ধর্মীয় আবহে শত শত বৌদ্ধ পুণ্যার্থীর উপস্থিতিতে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানস্থলের চারপাশে যে বৌদ্ধ বিহারগুলোর ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়, সেগুলো এ দেশের বৌদ্ধদের উত্তরাধিকার; বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উদ্ভব হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান থেকেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মহামানব গৌতম বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ করে বৌদ্ধ সমাজ এ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে মানবকল্যাণে কাজ করে যাবে। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আজ নব শালবন বিহারের পবিত্র প্রাঙ্গণ পুণ্যার্থীদের জন্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে সুসজ্জিত, এবং দেশ-বিদেশের তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের কাছে এটি একটি অনন্য দর্শনীয় স্থান।

ছবি